উত্তোলিত অতিরিক্ত অর্থ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নতুন জমি ক্রয়, আনুষঙ্গিক বিনিয়োগ, অন্যান্য করপোরেট প্রয়োজন এবং এনএসএলের দায় পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত এমএসএমের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এনএসএলের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক গৃহীত মূলধন বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, এনএসএলের বিদ্যমান ৬৬ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন বাড়িয়ে ৯০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হবে। এতে প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ার সংখ্যা দাঁড়াবে ৯০ লাখে, যার প্রতিটির অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা।
এনএসএলের পরিচালনা পর্ষদ মূলধন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এমএসএমকে তাদের বিদ্যমান মালিকানা অনুপাতে অতিরিক্ত ২৩ কোটি ৮৩ লাখ ৩ হাজার ২০০ টাকার শেয়ার গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে। মালেক স্পিনিংয়ের পরিচালনা পর্ষদও এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে। এতে এনএসএলে এমএসএমের মালিকানার হার ৯৯ দশমিক ২৯৩ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে।
সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নতুন শেয়ার সাবস্ক্রিপশনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ এমএসএমের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে। পরিচালনা পর্ষদের মতে, এনএসএলের প্রস্তাবিত মূলধন পুনর্গঠন, ঋণ দায় পরিশোধ, অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ এবং আনুষঙ্গিক বিনিয়োগ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার করার পাশাপাশি কার্যক্রমকে আরো দক্ষভাবে পরিচালনায় সহায়ক হবে।
কোম্পানি আরো উল্লেখ করেছে, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় এনএসএলের প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছিল। ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এমএসএমের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
প্রকল্পটি স্থগিত থাকলেও ভৌগোলিক সংযুক্ততা, অবস্থানগত সুবিধা ও নিরাপত্তাজনিত কৌশলগত বিবেচনায় এনএসএলকে কিছু আগে চুক্তিবদ্ধ কৌশলগত জমি ক্রয় অব্যাহত রাখতে হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন দেখা গেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫ টাকা ৭৮ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৪ টাকা ১৫ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে শুধু সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে মালেক স্পিনিংয়ের ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৪১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭ টাকা ৩৮ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা ৬৩ পয়সায়।
২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মালেক স্পিনিং মিলস পিএলসির অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি, পরিশোধিত মূলধন ১৯৩ কোটি ৬০ লাখ ও রিজার্ভে রয়েছে ৮৩০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৯ কোটি ৩৬ লাখ। এর ৪৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৪৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩৭ দশমিক ২১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।